এহসানুল ইসলাম

পাঠক মন্তব্য

আমি একজনকে চিনি যিনি হাতে বানানো রুটি বিক্রি করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হতে চান। আমি এখন টর্টিলা কেনার বদলে তাঁর কাছ থেকে হাতে বানানো রুটি কিনি। দামও বেশি না, খেতেও খুব মজা—একদম তাজা, হাতে বানানো রুটির মতো। তিনি চালের রুটি, আটার রুটি, পরোটা এবং আরও কিছু একই ধরনের পণ্য বিক্রি করেন।

মাইন্ডফুল কনজামশন

ক’দিন আগে ফিনল্যান্ডের গনমাধ্যমে সার্ভিস সেক্টর এম্লয়ারদের সংগঠন Palta’র একটি প্রেস রিলিজের উপর রিপোর্ট হয়েছিল। এতে বলা হয়েছে, ফিনল্যান্ডের প্রত্যেক হাউজহোল্ড যদি মাসে ৫০ ইউরো বেশি কনজিউম করে তবে তা ১৫০০০ চাকরির সুযোগ তৈরি করে দেবে। তারা অবশ্য বলেও দিয়েছে কোন ধরনের খাতে ইউরোগুলো খরচ করতে হবে। ফার্স্ট ইম্প্রেশনে ব্যাপারটিকে আমার কাছে স্ট্যাটিসটিক্যাল ভেলকি মনে হলেও, পরে যৌক্তিক মনে হয়েছে।

বাস্তবে, নির্দিষ্ট কিছু খাতে একটি দেশের সকল হাউজহোল্ডের পক্ষে মাসে মাসে অতিরিক্ত ৫০ ইউরো ব্যয় করাটা ঘটার নয়। তবে এখান থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আমলে নেয়া যায়। তাহলো, আমরা যদি আমাদের টাকা চিন্তাশীল উপায়ে ব্যয় করি- তবে তা তাৎপর্যবাহী পরিবর্তন ঘটাতে পারে। আর যদি না করি, তবে ফলাফল হবে বিপরীত- অর্থাৎ ‘নো চেইঞ্জ’।

দীর্ঘদিন যাবত আমার উপলব্ধি হল, আমাদের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাক্টিভিটি তেমন ইমপ্যাক্টফুল হচ্ছে না। খরচের হাত দিন দিন প্রশস্ত হয়ে উঠলেও তার সুফল সহায়হীন-সুবিধাবঞ্চিতদের দিকে চ্যানেলড হয় না। অথচ, আমাদের সচেতন ও দায়িত্বশীল কিছু পদক্ষেপ এ দৃশ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে একটি উদাহরন দেই। এটি অলমোস্ট অবধারিত হয়ে উঠেছে যে, আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের জীবনপদ্ধতির স্বরূপও বদলে যেতে থাকে- এর অংশ হিসেবে নিয়মিত বাজার-সদাইও ‘আধুনিক সুপারশপ’ ও অনলাইন স্টোরে গড়িয়েছে। এরূপ করাটা দায়িত্বপূর্ণ নয়। স্বাস্থ্যকারিতা ও নিরাপত্তার অজুহাতের মাঝে কিছু যুক্তি থাকলেও প্যাকেটজাত ও জেনারেল আইটেম অনায়াসেই অলিগলির দোকান থেকেই কেনা যায়। সুপারশপ থেকে কিনলেও তো একই জিনিসই কেনা হবে! যেমন- অধিকাংশ গ্রোসারি আইটেম, হাইজিন আইটেম, টয়লেট্রিস, ঔষধ ইত্যাদি। এভাবে চিন্তা করে করে, নিজের টাকার একটি অংশ কম পুজির দোকানদারদের ক্যাশবাক্সে যদি চ্যানেল করে দেয়া যায়, তবে তা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ছোট ব্যবসার প্রসার লাভ, সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি ইত্যাদিতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।

একই ধরনের সচেতনতা ফিনল্যান্ডেও চর্চিত হবার দাবি রাখে। কেবল নিজের সহজতা ও ইউটিলিটির কথা মাথায় রেখে সুপার-হাইপার মার্কেট, ও অনলাইনে বাজার-সদাই সেরে নিলে চলবে না। কোথা থেকে কি জিনিস কিনলে সুবিধাবঞ্চিত ও সুবিধা প্রত্যাশীদের উপকার হবে তা মাথায় রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা উল্লেখিত ৫০ ইউরোর পন্থাই অবলম্বন করতে পারি। তবে আমি অতিরিক্ত কনজামশন কোনভাবেই সাজেস্ট করব না। তবে কি করতে বলব?

যেটা করতে বলব তাহলো, মাসিক খরচের কমপক্ষে ৫০ ইউরো মাইন্ডফুল কনজামশনের আওতায় নিয়ে আসা। এর অর্থ, নিজেদের কেনাকাটা রিভিউ করে কিছু কিছু আইটেম ও বিক্রেতা এমনভাবে পরিবর্তন করা যাতে করে নতুন ও ছোট ব্যবসায় উদ্যোগে- অলরেডি যা খরচ করি তার পাশাপাশি, অতিরিক্তভাবে- উল্লেখিত ৫০ ইউরো ব্যয়িত হয়।

তা কেমন লাগল আইডিয়াটা? আপনি এটি বাস্তবায়নের নিয়্যাহ গ্রহন করছেন তো? তবে কিছু কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে ভুলবেন না। আমি নিয়্যাহ গ্রহন করলাম। এবং আমি আপডেট দিব, ইনশাআল্লাহ!

আমি একজনকে চিনি যিনি হাতে বানানো রুটি বিক্রি করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হতে চান। আমি এখন টর্টিলা কেনার বদলে তাঁর কাছ থেকে হাতে বানানো রুটি কিনি। দামও বেশি না, খেতেও খুব মজা—একদম তাজা, হাতে বানানো রুটির মতো। তিনি চালের রুটি, আটার রুটি, পরোটা এবং আরও কিছু একই ধরনের পণ্য বিক্রি করেন।

পাঠক মন্তব্য